Month: December 2015

অনেক গেমস এ গেমারদের সুবিধার জন্য ম্যাপ দেয়া থাকে। কেন? যাতে করে গেমার এর বুঝতে সুবিধা হয় তার মিশনটা কমপ্লিট করার জন্য কোথায় কীভাবে এপ্রোচ করতে হবে।
আমাদের কোষের মধ্যে রয়েছে ক্রোমোসোম আর তাতে আছে DNA। কিছু ডি,এন,এ তে রয়েছে জিন। জিন হলো DNA এর একটা অংশ যা একটা জীবের গঠন কীরূপ হবে তা নির্ধারণ করে এবং পিতা-মাতার বৈশিষ্ট্য সন্তানের দেহে নিয়ে যায়।
তো গেমারদের মতো যদি আমাদের কাছে জিন এর একটা ম্যাপ থাকত, তাহলে কেমন হত? ওয়েল, তেমন কিছুই হত না, খালি ম্যাপটা আমাদের মাথার উপ্রে দিয়ে যাইত !!!
কারণ আমরা কেবল ভার্চুয়াল জগতেরই গেমার। এইক্ষেত্রে গেমার হলেন জিনবিজ্ঞানী ও মাইক্রোবায়োলজিস্টরা। তারা একইসাথে হ্যাকারও!!! কীভাবে?

12376206_1256238594392565_8321493549897301803_n

১৯১১ সালের ঘটনা। Alfred Sturtevant নামক এক বিজ্ঞানী Drosophilla নামক এক প্রাণীর জিন ম্যাপ বের করে ফেললেন !!! সেটা আবার কী?
জিন ম্যাপ বলতে বুঝায় জিনগুলা কোন কোন ক্রোমোসোমের ভিতরের DNA এর কোথায় আছে তা
খুঁজে বের করা। অনেকটা গেমের কই কই মিশনের কাজ আছে তা জেনে যাওয়া।
তো বিজ্ঞানীরা যদি same ভাবে মানুষের জিন ম্যাপ বের করে ফেলতে পারে, তাহলে তারা জেনে যাবে তাদের “মিশন” এর লোকেশন কোথায়। তাদের মিশনগুলা কী ছিল একটু জেনে নেই।
১। এর মাধ্যমে যেসব ভাইরাস আমাদের আক্রমণ করে তাদের জিন কীরকম তা বুঝা যাবে। মানে আমাদের ক্ষতি করার জন্য তাদের যে কর্মপরিকল্পনা, তা আমরা্ জেনে যাব।
২। ক্যান্সার এর সময়ে দেহের জিন এ যে আকস্মিক পরিবর্তনগুলো (Mutation) হয়, সেগুলো জানা যাবে এবং ক্যান্সারকে শায়েস্তা করতে আরও ভাল ব্যবস্থা নেয়া যাবে।
৩। আরও যেসব জিনগত রোগ যেমন: বংশগত ডায়াবেটিস, হিমোফিলিয়া এসব ব্যাপারে আরও ভাল ধারণা পাওয়া যাবে এবং এদের শায়েস্তা করার পথে এগুনো যাবে।
৪। এছাড়াও ফরেনসিক মেডিসিন, নৃতত্ত্ববিদ্যা, বিবর্তন ইত্যাদি ক্ষেত্রে বড়সড় অগ্রগতি হবে।
কিন্তু এসব করতে গেলে খালি জিন কোথায় আছে এটা জানলেই হবে না! মিশনগুলো বেশ কঠিন এবং এ কাজে আমাদের ‪#‎Cheat_code‬ প্রয়োজন।
জিন তথা DNA হলো De-oxy riboNucleic Acid. এটা মানে কী বুঝায়? কয়েকটা সমীকরণ দেখি, যেটা থেকে DNA পাওয়া যাবে:
৫ কার্বন ওয়ালা ‘রাইবোজ’ নামক সুগার যেটার ২ নং কার্বনে অক্সিজেন নাই = ডিঅক্সিরাইবোজ
ডিঅক্সিরাইবোজ সুগার + নাইট্রোজেনযুক্ত ক্ষার = নিউক্লিওসাইড
নিউক্লিওসাইড + ফসফেট গ্রুপ = নিউক্লিওটাইড
অনেকগুলা নিউক্লিওটাইড = পলিনিউক্লিওটাইড = নিউক্লিক এসিড
নিউক্লিক এসিড + নিউক্লিক এসিড = DNA
মানুষের একটা ক্রোমোসোমে ৬ বিলিয়ন (৬০০ কোটি) এরও বেশি নাইট্রোজেনযুক্ত ক্ষার থাকে। এগুলাই ২টা নিউক্লিক এসিডকে জোড়া লাগিয়ে DNA তৈরি করে। ক্ষারগুলো হলো:
১। Adenine (A)
২। Guanine (G)
৩। Thymine (T)
৪। Cytosine (C)
এই বিলিয়ন বিলিয়ন ক্ষারগুলো কীভাবে থাকে? ATTCGATC ………. এরকম করে ৬০০ কোটির উপরে।
এটাই হলো সেই কাঙ্ক্ষিত “Cheat code” । grin emoticon যেটাকে বলে “Base sequence” ।
তো মানুষের এই Gene এর ম্যাপ বের করা আর Base sequence বের করা, এটা ১৯১১ সালে চিন্তাও করা যায় নি। পরে ১৯৫৩ সালে Watson & Crick DNA এর structure আবিষ্কার করে ১৯৬২ সালে নোবেল পেয়ে গেলেন। এরপরে Friedrich Sanger DNA এর এই Base sequence করার পদ্ধতি আবিষ্কার করে ফেললেন এবং ১৯৮০ সালে তার জীবনে দ্বিতীয়বারের মত নোবেল পেয়ে গেলেন। এরপরই বিজ্ঞানীরা এই map এবং cheat code বের করার স্বপ্ন দেখতে থাকেন। শুরু হয় “Human Genome Project” নামে Billion Dollar এর Project।

লিখেছেনঃ Ahmad Salman Sirajee, ফেসবুক গ্রউপঃ রহস্যময় বিজ্ঞান জগত